২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

আরেকটি ফাইনালে হারতে চান না মাশরাফি

জানুয়ারি ২৬, ২০১৮, সময় ৯:৩১ অপরাহ্ণ

🌅 বাংলাদেশ কখনো ফাইনাল জিততে পারেনি।

🌅 মিরপুরে যে তিনটি ফাইনালে খেলেছে, প্রতিটি হেরেছে।

🌅 কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনাল জিতে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় বাংলাদেশ।

প্রশ্নটা শুনে মাশরাফি বিন মুর্তজার মুখাবয়বে জীবনানন্দ দাশের প্রশ্নটাই ফুটে উঠল, ‘আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?’ সোনালি ডানার চিলকে কবি যে উত্তর দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়কের উত্তরও হলো কাছাকাছি—‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’

দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে বাংলাদেশের কখনো জেতা হয়নি ফাইনাল। দুইয়ের অধিক দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ যে কটি সিরিজ-টুর্নামেন্টে খেলেছে, সেগুলোর মাত্র তিনটিতেই শিরোপার লড়াইয়ে নামতে পেরেছে। তিনটিই আবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

প্রথমটি ২০০৯ সালে, ১৬ জানুয়ারি। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের দোরগোড়া থেকে বাংলাদেশ ফিরে এসেছিল রুবেল হোসেনের মাত্র দুটি ওভারেই। ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ১৫৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ১১৪ রানেই। শক্তিশালী শ্রীলঙ্কানদের বিপক্ষে জয়টা যখন ক্রমেই চলে আসছিল হাতের কাছে, তখন বাংলাদেশের মহা সর্বনাশ করেছিল ফারভিজ মাহরুফ-মুত্তিয়া মুরালিধরনের অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেট জুটি (৩৯)। ৩০ বলে যখন শ্রীলঙ্কার দরকার ৩৫ রান, রুবেল ২ ওভারে দিয়ে বসলেন ৩২ রান! মুরালিই নিলেন ৩১ রান।

বেদনার আরেক নাম ২০১২ সালের ২২ মার্চ, এশিয়া কাপের ফাইনাল। পাকিস্তানের দেওয়া ২৩৭ রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকে শেষ ওভারে করতে হতো ৯ রান। ২ বলে ৪। স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সেই ম্যাচটা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হারল ২ রানে। পরাজয়ের যাতনা সইতে না পেরে মুশফিকুর রহিম কেঁদেছিলেন, অশ্রুর রেখা দেখা দিয়েছিল সাকিবের চোখে; কেঁদেছিল আসলে গোটা দেশ।

মিরপুরেই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হওয়া ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালটা যদিও খুব একটা রোমাঞ্চ ছড়ায়নি। ঝড়-বৃষ্টিকবলিত ম্যাচটা নেমে এসেছিল ১৫ ওভারে। বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রান ২ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে টপকেছিল ভারত।

বাংলাদেশ যে তিনটি ফাইনাল খেলেছে, প্রতিটিই হেরেছে। কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে আরেকটি ফাইনাল কি জিততে পারবে বাংলাদেশ? ভুলে ছিলেন, ভালোই ছিলেন। মাশরাফির তাই অনুযোগ, ‘এটা আমার মাথায় ছিল না। মনে না করালেই পারতেন! আমি হয়তো তিনটি ফাইনালেই ছিলাম, মুশফিক ছিল, সাকিব ছিল, তামিমও ছিল হয়তো। এটা আমাদের নতুন আরেকটা সুযোগ। কাল আরেকটি নতুন ম্যাচ। আগের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন মনে করছি না। তবে হার-জিত থাকবেই। এটা নিয়ে না ভেবে আমার মনে হয় ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা। আর প্রথম তিনটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেই মানসিকতাই থাকুক।’

পুরোনো কথা মনে করতে হবে, এমন কথা নেই। তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই শিক্ষা নেবে। নতুন ইতিহাস গড়বে। মাশরাফিও শিরোপা জেতার তাড়না অনুভব করছেন ভীষণ, ‘ফাইনাল জিততে আমরা উন্মুখ। সেটা হলে প্রথমবারের মতো হবে। তবে তার আগে এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করলে চাপ হয়ে দাঁড়ায়। ফাইনাল ম্যাচে চাপ থাকেই। গতকাল জিতলেও থাকত। আমার মনে হয়, এই হারে চাপটা কমে যাওয়ার কথা। তবুও একটা চাপ থাকে, ওটা থাকবেই। সবকিছু নির্ভর করছে কেমন শুরু করতে পারি। যারা স্নায়ু সামলাতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।’
কাল শুধু ইতিহাস রচনার নয়, ম্যাচটা তাহলে মাশরাফিদের দমেরও পরীক্ষা!

Comments

comments




error: Content is protected !!