Thursday , April 19 2018
সর্বশেষ খবর
Home / নির্বাচিত / জেনে নিন জন্মের পর শিশুদের কি কি সমস্যা হয়… !!

জেনে নিন জন্মের পর শিশুদের কি কি সমস্যা হয়… !!

জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই কিছু কিছু স্বাভাবিক সমস্যা হয়৷ যেমন –

১) প্রস্রাব হতে দেরি হওয়া
বেশিরভাগ নবজাতকের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একবার প্রস্রাব হয় এবং পরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আর প্রস্রাব নাও হতে পারে৷ এটি স্বাভাবিক৷ জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাধারণত পায়খানা হয় এবং তা কালো রঙের৷

২) বুকের দুধ আসতে বিলম্ব হওয়া
প্রথম ২/৩ দিন মায়ের দুধ কম আসে এবং এ সময় শিশুর কম দুধেরই প্রয়োজন থাকে৷ অন্য কোন খাবার না দিয়ে বারবার দুধ টানাতে থাকলে সাধারণত তৃতীয় দিনে দুধের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এ সময় শিশুর পায়খানা একটু পাতলা ও দিনে আট দশ বারও হতে পারে৷ শিশু বুকের দুধ যখনই খেতে চাইবে তখনই তাকে খেতে দিতে হবে৷ সময় বেঁধে বা ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়ানো ঠিক নয়৷ দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের স্তনের বোঁটাসহ কালো অংশের যতটুকু সম্ভব শিশুর মুখের ভেতর দিতে হবে৷ এক স্তন থেকে দুধ খাওয়া শেষ হলে অপর স্তনের দুধ খাবে৷

৩) নবজাতকের জন্ডিস
জন্মের তিন-চার দিন পর প্রায় সকল নবজাতকের শরীরই কমবেশি হলদে দেখায় বা জন্ডিস হয়৷ এটি স্বাভাবিক৷ এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের মধ্যে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়৷ কিন্তু নিচের লক্ষণগুলো থাকলে তাকে অস্বাভাবিক জন্ডিস ভাবতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে৷

যদি জন্মের পরের দিন জন্ডিস ভালভাবে বোঝা যায়৷
যদি কোনও সময় জন্ডিসের মাত্রা অনেক বেশি মনে হয় যেমন- চোখ-মুখ শরীর ছাড়াও হাত ও পায়ের তালু পর্যন্ত হলুদ মনে হয়৷
শিশু কম খেতে চায় বা তাকে নিস্তেজ মনে হয়৷
যদি শিশুর পায়খানার রঙ ফেকাসে বা সাদা সাদা হয়৷
যদি জন্ডিসের সঙ্গে শিশুর জ্বর/বমি ইত্যাদি থাকে৷
দুই সপ্তাহ বয়সের পরও যদি বেশ স্পষ্ট জন্ডিস থাকে৷
যদি মায়ের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হয়৷
৪) গায়ে লাল লাল দানা
প্রথম সপ্তাহে অনেক শিশুর গায়ে লাল দানা ওঠে, একে অনেকে মাসি-পিসি বলেন, যা স্বাভাবিক এবং কয়েকদিনের মধ্যে আপনা থেকেই তা ভাল হয়ে যায়৷ এ সময় শিশুর গায়ে কোনও তেল বা লোশন লাগানো ঠিক নয় তাতে এটি আরো বাড়তে পারে৷ নবজাতকের ত্বকের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহার না করাই ভাল৷ অলিভ ওয়েল, বেবি ওয়েল দেয়া উত্তম৷

৫) নাভির যত্ন
নাভিতে কোনও কিছু না লাগিয়ে শুকনো রাখতে হবে৷ যদি নাভির চারপাশ লাল হয় অথবা পুঁজের মতো রস আসে, তখনই ওষুধ ব্যবহার করতে হবে৷ নাভিতে কোনও প্রকার সেঁক দেবার প্রয়োজন নেই৷

৬) চোখ ওঠা
যদি চোখে ময়লা আসে বা ভোরবেলা চোখ এঁটে থাকে তবে চোখে রোজ চারবেলা চোখের ড্রপ (ক্লোরামফেনিকল আই ড্রপ) সপ্তাহ-খানেক দিতে হবে, কিন্তু অবশ্যই তা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী৷

৭) গোসল করানো
জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে গোছল না করিয়ে পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে ভাল করে মুছে শিশুকে আর একটি পরিষ্কার কাপড়ে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা উচিত৷ শিশুর গায়ে ও হাত-পায়ের ভাঁজে যে সাদা আঠালো প্রলেপ থাকে তা কিন্তু খারাপ কিছু না৷ এই প্রলেপ শিশুর ত্বককে রক্ষা করে৷ জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলার প্রয়োজন নেই৷ শিশু পরিণত ও সঠিক ওজনের হলে ২/১ দিন পর গোছল করানো যায় তবে নাভি শুকানো না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে৷ প্রতিদিন উষ্ণ গরম পানিতে ভাল করে সমস্ত শরীর মুছে দেয়া উচিত৷ শিশু যদি অপরিণত ও কম ওজনের হয় তবে অন্তত প্রথম দু-সপ্তাহ গোসল না করানোই ভাল৷

৮) চুল কাটা
জন্মের অল্প দিনের মধ্যেই মাথার চুল না কেটে কিছু দেরিতে কাটা উত্তম৷ চুলগুলো পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে৷ এগুলো শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করে৷

Check Also

পালিয়ে বিয়ে, ‘ফুলশয্যা’ হল থানায়!

প্রেম করে বিয়ে করায় নবদম্পতির ফুলশয্যার রাত কাটাতে হল থানায়। সম্প্রতি ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার …