১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

৭ ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সাত দেশকে পেছনে ফেলে এবার ৯৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে দেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি ঘটায় এই র্যাংকিং অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দ্য গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স ২০১৭-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ওপর পর্যালোচনা তুলে ধরতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন সংস্থাটির গবেষকরা।

১২টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক তৈরি করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ)। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, মুদ্রাবাজারের উন্নয়ন, পণ্য ও শ্রমবাজারের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাজারের আকার, ব্যবসায় উন্নতি ও উদ্ভাবন প্রভৃতি। এই বিষয়গুলোর ওপর গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮৫ জন ব্যবসায়ীর মতামতের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া এই সূচকে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ২০০১ সাল থেকে।

প্রতিবেদন মতে, ব্যবসা প্রতিযোগিতা স্বক্ষমতা সূচকে সাত নম্বরের মধ্যে এবার ৩.৯০ নম্বর নিয়ে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ৯৯তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলদেশ। ২০১৫ সালে ৩.৮০ নম্বর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৬তম। বিগত বছরের মতো এবারও এই সূচকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

তৃতীয় সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস চতুর্থ এবং জার্মানি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও এবার একধাপ পিছিয়েছে দেশটি। ভারতের অবস্থান ৪০তম। শ্রীলঙ্কা ৭১তম থেকে পিছিয়ে ৮৫তম অবস্থানে নেমেছে। অন্যদিকে, ভুটান ৯৭তম থেকে ৮২তম, নেপাল ৯৮তম থেকে ৮৮তম এবং পাকিস্তান ১২২তম থেকে ১১৫তম অবস্থানে এসেছে।

এবার মালয়েশিয়ার অবস্থান ২৩তম। গতবার ছিল ২৫তম। চীনের অবস্থান ২৭তম, গতবার ছিল ২৮তম। থাইল্যান্ডের অবস্থান ৩২তম, ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ৩৬তম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির প্রধান প্রতিবন্ধকতা দুর্নীতি। গতবারের প্রতিবেদনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। ২০১৬ সালে দেশের অবকাঠামোগত ও প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের ফলেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সাত ধাপ এগিয়েছে বলে মনে করে সিপিডি।

সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে গিয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশ এগিয়েছে। তবে নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ যে পুনর্গঠন কর্মসূচিগুলো হাতে নিয়েছিল সেগুলোর পরের ধাপের পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে না নেওয়ায় অনেক ধরনের সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। এটা থেকে বেরোতে না পারলে আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। ’

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা মনে করেন বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও বন্দর পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি কমে আসা, ঘুষ গ্রহণের প্রবণতা কমে আসা, সরকারি সেবা সহজলভ্য হওয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমায় ব্যবসা করা সহজ হয়েছে। তবে ব্যবসা পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন ও ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত নীতির উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতার সূচক, যেখানে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারী, দেশের বিনিয়োগকারী এবং বিদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীরা এই সূচক দেখেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার দিক দিয়ে আমরা একই জায়গায় রয়ে গেছি। এইখানে কিন্তু আমাদের অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনটা বেশি হবে। ’

মানবসম্পদের যথাযথ উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকের অগ্রগতির একটি বড় অন্তরায় বলে মনে করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের মানবসম্পদ দরকার, তা এখনো তৈরি হয়নি। ’ ফাহমিদা বলেন, ‘দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের পদগুলোতে এখন অনেক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেশের মানবসম্পদের যথাযথ উন্নয়ন না হওয়ার কারণেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ’

Comments

comments