২০শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

১১ বছর বয়সের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের বাবার পরিচয়

অক্টোবর ২৬, ২০১৭, সময় ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। এতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর সন্তানের জন্ম দেয় শিশু ছাত্রী। সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। প্রমাণ মিলেছে মামলার আসামিই ওই কিশোরীর সন্তানের বাবা।

এর আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ওই সন্তান তাঁর নয় বলে দাবি করেছিলেন মামলার আসামি নূর মোহাম্মদ আলী (৫০)।

পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আজ বুধবার থানায় এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ধর্ষণে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ আলীই ওই মেয়ের সন্তানের বাবা।

ঘটনার সময় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত ওই মেয়ে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈর থানায় মামলা করে ওই স্কুলছাত্রীর এক স্বজন। তখন মেয়েটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রেখেছিল সে। কিন্তু শারীরিক পরিবর্তন আসার পর বিষয়টি স্বজনদের কাছে প্রকাশ পায়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও গর্ভধারণের বিষয়টি ধরা পড়ে।

স্কুলছাত্রীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী নূর মোহাম্মদ আলীর বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করত। এ সুযোগে নূর মোহাম্মদ বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেন। এতে ওই ছাত্রী রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হন নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে (ছাত্রী) নিজ ঘরে নিয়ে যান। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হলে খুন করে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়। ভয়ে বিষয়টি বেশ কয়েক মাস গোপন রাখে সে।

স্কুলছাত্রীর স্বজন কালিয়াকৈর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর মোহাম্মদ ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করলেও গর্ভের সন্তান তাঁর নয় বলে দাবি করেন। পরে পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

এর তিন মাস পর ওই স্কুলছাত্রী একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশের শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজিম হোসেন বলেন, ‘নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।’

এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে মেয়েটির পরিবার।

এ ব্যাপারে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। শেষ বয়সে বিদেশ গিয়ে কী করব। শিশুটি আমার কি না তা আমি নিশ্চিত নই। ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নাই।’

Comments

comments

আজকের সব খবর

error: Content is protected !!