১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

সৌদি আরবে ১২ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, ভূমধ্যসাগরে ২৬ কিশোরীর মৃতদেহ !

নভেম্বর ৯, ২০১৭, সময় ১:২১ পূর্বাহ্ণ

দুর্নীতির অভিযোগে ১২ হাজার সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সৌদি সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও কোম্পানির এ অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। খবর মিডল ইস্ট মনিটর।
দেশটির ব্যাংকার ও আইনজীবীদের ধারণা এই সংখ্যাটা আরো বাড়তে পারে।

৪ নভেম্বর সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে দেশটির ১১ জন রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে আলোড়ন তৈরি হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আরবের শীর্ষ ধনী আল-ওয়ালিদ বিন তালালও ছিলেন। এছাড়া হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান প্রিন্স মানসৌর বিন মুকরিন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি কর্মকর্তা বলেন, মানি লন্ডারিং, ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং ব্যক্তিগত লাভে সরকারি সুবিধা গ্রহণের মতো অভিযোগ এনে তাদের ব্যাংক একাউন্টগুলো জব্দ করা হয়।
নতুন এই কমিটি যে কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারে যুবরাজের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি।

ভূমধ্যসাগরে ভাসছিল ২৬ কিশোরীর মৃতদেহ

ইতালির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ২৬ জন কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে। রোববার ভূমধ্যসাগরে ওই কিশোরীদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর সিএনএনের।
ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরীরা নাইজার এবং নাইজেরিয়া থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ আসার সময় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ওই কিশোরীদের বয়স ১৪-১৮ বছরের মধ্যে।
ইতালির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সালেরনো শহরের পুলিশের প্রধান লেরেনা সিকোত্তি বলেছেন, আজ মঙ্গলবার ওই কিশোরীদের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ওই কিশোরীদের ওপর শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখবেন তারা।

ভূমধ্যসাগরে রাবারের তৈরি একটি ডিঙি নৌকার পাশে মৃতদেহগুলো ভাসছিল। যখন উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছান, নৌকাটি ধরে ভেসে থাকতে পারায় বেশ কয়েকজন বেঁচে ছিল। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। পাশেই ভাসছিল ওই কিশোরীদের মৃতদেহগুলো।
রোববার চারটি পৃথক উদ্ধারাভিযানে প্রায় ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। স্প্যানিশ ক্যান্টাব্রিয়া জাহাজে করে তাদের সালেরনো বন্দরে আনা হয়।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৯০ জন নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে এক সপ্তাহ বয়সী এক শিশুসহ ৫২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন।

ইউরোপ প্রত্যাশীরা লিবিয়াকে তাদের অভিবাসনের প্রাথমিক পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে অনেকেই যুদ্ধ, নির্যাতন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য এই ভয়াবহ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়াকে মানবপাচারকারীরা তাদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে সোমবার ইতালির পুলিশ একজন মিশরীয় এবং একজন লিবিয়ানকে মানব পাচারের অভিযোগে আটক করে। তবে ওই ব্যক্তিরা ওই কিশোরীদের পাচারের সঙ্গে জড়িত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য মতে এ বছরের শুরুতে ভূমধ্যসাগরীয় এই রুটে ২ হাজার ৮৩৯ জন অভিবাসন প্রত্যাশী মারা গেছে। এ সময় দেড় লাখের বেশি অভিবাসী ইউরোপে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে শতকরা ৭৪ ভাগই ইতালি হয়ে ইউরোপে ঢুকেছে।

Comments

comments