১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

কুমিল্লায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৭ হাজার বর্গফুটের বিশাল পতাকা !

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭, সময় ৭:২২ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার লাকসামে ১৭ হাজার ২৮০ বর্গফুটের একটি জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
সামাজিক সংগঠন বিজরা ঐক্যমঞ্চের উদ্যোগে শনিবার লাকসামের বিজরা রহমানিয়া চিরসবুজ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এই জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়। পরে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা কাউছার আমিন মজুমদার সজীবের পরিচালনায় ও মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল, কলেজের অধ্যক্ষ আবুল খায়ের, বাকই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবুল কাসেম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন খোকন, মোহাম্মদ হোসেন ও মো. আবুল বাসার প্রমুখ।

এদিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সদর সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসকের বাসভবন প্রাঙ্গণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং বিকেলে নগরীতে বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় মেয়রকে ধাওয়া

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার না করায় স্থানীয় মেয়রের ওপর চড়াও হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে মেয়র নিজের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। শনিবার সকালে মুক্তাগাছা পৌরসভা চত্বরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তাগাছা পৌরসভার মেয়র মো. শহীদুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হন।
মুক্তাগাছা পৌরসভা ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে পৌরসভার উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শিশুদের কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলের বিজয়মঞ্চে বিজয় দিবসের একটি ব্যানার করা হলেও ওই ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল না। অনুষ্ঠান চলাকালে ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার না করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে মুক্তাগাছা পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাই বর্তমান মেয়রের কাছে জানতে চান, কেন অনুষ্ঠানের ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়ে মেয়রের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মেয়রের ওপর চড়াও হন। পরে মেয়র নিজের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। ঘটনার সময় অনুষ্ঠানস্থলে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনার পর মুক্তাগাছা পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল হাইসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ‘ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকার কারণ জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম বলেন যে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হলে জিয়াউর রহমানের ছবিও ব্যবহার করতে হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধের তিনি ঘোষক ছিলেন।’ এ কথা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার শামিল। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের জবাবে মেয়র শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর মুক্তাগাছা পৌরসভার উদ্যোগে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। কোনো বছরই ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকে না। এর আগে আওয়ামী লীগের মেয়র আবদুল হাইয়ের সময়ের ব্যানারেও বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিল না। আমি মেয়র হওয়ার পর গত দুই বছরও আগের মেয়রের সময়ের ব্যানারের অনুকরণে ব্যানার তৈরি করে বিজয় দিবস পালন করেছি। এ বছর হঠাৎ করেই বঙ্গবন্ধুর ছবি নেই—এমন অজুহাতে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে আমি নিজের কার্যালয়ে ফিরে যাই। আমি বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করিনি।’

Comments

comments

আজকের সব খবর

error: Content is protected !!