Wednesday , May 23 2018
Home / লাইফস্টাইল / গারো পাহাড়ে সবুজের হাতছানি

গারো পাহাড়ে সবুজের হাতছানি

যারা সবুজ আর প্রাকৃতির কাছাকাছি যেতে চান তারা গারো পাহাড়ের ডাকে চলে যেতে পারেন মধুটিলা ইকোপার্কে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা গারো পাহাড়ে মধুটিলা ইকোপার্ক অবস্থিত।

বন বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে পোড়াগাঁও ইউনিয়নে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের সমসচূড়া বন বিটের আওতায় ৩৮০ একর বনভূমিতে গারো পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে সরকারিভাবে ২০০০ সালে নির্মিত হয় ‘মধুটিলা ইকোর্পাক’ তথা পিকনিক স্পট।

এই পার্কটির প্রধান ফটক পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়বে সারি সারি সবুজ গাছ। রাস্তার ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দু-পাশে রকমারি পণ্যের দোকান। সামনের ক্যান্টিন পার হলেই পাহাড়ি ঢালু রাস্তা। এর পরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ ও পাখির ভাষ্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। তারপর স্টার ব্রিজ পেরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু-নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণ পিপাসুরা।

ইকোপার্কের পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ইকোপার্কে ঢুকতে জন প্রতি টিকিটের মূল্য ১০ টাকা, বড় বাস ৬০০ টাকা, মিনিবাস ৪০০ টাকা, মাইক্রোবাস ২০০ টাকা, মোটর সাইকেল ৩০ টাকা। এখানে আলাদা আলাদা ফি দিয়ে প্যাডেল বোট চালানো, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠা, শিশু পার্কে প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। শুধু দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য পাহাড়ের চূড়ায় চার কক্ষ বিশিষ্ট শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সুসজ্জিত মহুয়া নামের রেস্ট হাউজ রয়েছে। এ রেস্ট হাউজ ব্যবহার করতে চাইলে মধুটিলা রেঞ্জ অফিস, ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিসে বুকিং দিতে হয়।

এ ছাড়াও এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা, বন্য প্রাণির বিরল প্রজাতি পশু-পাখির ভাষ্কর্য। আরও আছে জীবন্ত হরিণ, ওষুধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির বৃক্ষ এবং ফুলসহ বিভিন্ন রঙের গোলাপের বাগান।

মধুটিলা ইকোপার্কে ঘুরতে আসা পর্যটক শফিক আহমেদ বলেন, মধুটিলা ইকোপার্কে অনেক বার এসেছি। এটি সত্যিই অনেক চমৎকার একটি পর্যটন কেন্দ্র। তবে মুধটিলা ইকোপার্কে অনেক স্থাপনা পুরাতন হয়ে গেছে। তাই পুরাতন স্থাপনাগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

পারভীন বেগম নামের আরেক পর্যটক বলেন, যারা সবুজ আর প্রকৃতিকে ভালোবাসের তাদের জন্য মধুটিল ইকোপার্ক উত্তম জায়গা। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।

মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর করিম প্রিয়.কমকে বলেন, মধুটিলা ইকোপার্কে এসে যে কেউ মুগ্ধ হবে। প্রতিবছর এই সময়গুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় থাকে। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো রয়েছে।

Check Also

নারীর মস্তিষ্ক নিয়ে ৮ তথ্য

নারীদের মস্তিষ্ক সম্পর্কে আটটি তথ্য পুরুষদের জেনে রাখা ভালো। কেননা কখনো কখনো নারীদের কার্যকলাপের প্রভাব …