Wednesday , May 23 2018
Home / বাংলাদেশ / ‘’বালের কামলা’’ কথাটা নিয়ে এয়ারপোর্ট পুলিশ এর পক্ষ থেকে দেয়া হল কঠোর বার্তা

‘’বালের কামলা’’ কথাটা নিয়ে এয়ারপোর্ট পুলিশ এর পক্ষ থেকে দেয়া হল কঠোর বার্তা

এয়ারপোর্ট যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি…

আমরা সবসময় যে কোন অভিযোগকারীকে স্বাগত জানাই। ২৪ ঘন্টা একটি নাম্বারে আমাদের একজন সিনিয়র অফিসার অভিযোগ বা তথ্যের বিপরীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন এবং তার একটা সুরাহা প্রদান করেন। আমরা শতভাগ বক্তব্য শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। কোন সদস্যের আচরণে বিচ্যুতি ঘটলে সংশ্লিষ্ট ফোর্স বা তদারকি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়

সম্প্রতি একটি ভিডিও চারদিকে ভাইরাল হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। এ বিষয়ে যাত্রী সাধারণের আস্থার জন্য কিছুকথা বলা প্রয়োজন মনে করছি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এয়ারপোর্টে আগত কয়েকজন রেগে একজন পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, সে নাকি একজনকে (…) বলেছে!

আমরা সবর্দা কর্তব্যরত সদস্যদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা না বলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করি। বিমানবন্দরে কোন যাত্রী বা দর্শনার্থী ০৩ (তিন) বার অনুরোধ করার পর নির্দেশনা প্রতিপালন না করে তাহলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে স্থান ত্যাগের নির্দেশনা রয়েছে। কর্তব্যরত সদস্য উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন না করে যাত্রী ও দর্শনার্থীর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন; যা অনাকাংখিত, অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। উক্ত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী সদস্যর বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে কমান্ডিং অফিসার আশ্বস্ত করেছেন।

আপনারা ভিডিওতে দেখেছেন, সাথে সাথে অফিসার পাঠিয়ে বিষয়টিতে মিমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। মিমাংসা সময়ের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়েছে।

প্রিয় যাত্রী ও দর্শনার্থীবৃন্দ, আমরা আপনাদেরকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এয়ারপোর্টে আমাদের সদস্যরা সারাক্ষণ আপনাদের সেবায় নিয়োজিত। এ সেবা দিতে গিয়ে কোন অনিয়ম বা খারাপ আচরণ করলে আমাদের অবশ্যই জানাবেন। এ বিষয়টি আপনাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে এরকম কিছু পেলে আমাদের জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচিছ।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী সেবা নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রজেক্টের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হয়েছে।

বিমানন্দরে এপিবিএন এর প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ ভিক্ষুক, টোকাই ও হকার মুক্ত করা হয়েছে। প্রায় তিন হাজারেরও বেশি প্রবাসী যাত্রী ভাইদের হারানো লাগেজ, মোবাইল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী ফেরত দেওয়া হয়েছে। যা আমাদের ফেসবুকে পেজে দেখতে পাবেন। বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ হতে মালামাল হারানো বা চুরি প্রায় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর সাথে একজন দর্শনার্থী প্রবেশর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে একজন যাত্রীর সাথে ৩/৪ জন বা ক্ষেত্র বিশেষে এর থেকেও বেশি সংখ্যক আত্মীয়-স্বজন বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে আসেন। সাধারণত একজন যাত্রী বিদেশ যাওয়ার সময় আবেগতাড়িত থাকেন বিধায় তিনি চান তার আত্মীয়-স্বজন বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করুক। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবেশের নিয়ম অনুসরণ করতে গিয়ে যাত্রীদের সাথে আসা স্বজনকে মূল প্রবেশ পথ এবং বহির্গমন টার্মিনালের প্রবেশ গেইটে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো আবেগঘন ও কষ্টদায়ক তিক্ত কাজটিও সরকারি দায়িত্ব পালন করার স্বার্থে এপিবিএন সদস্যদেরই করতে হয়।

বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজারের অধিক যাত্রী ও দর্শনার্থী যাতায়াত করে এবং এদের সাথে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার গাড়ী বিমানবন্দরে প্রবেশ করে থাকে। সকল ব্যক্তিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাড়ীগুলো সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এপিবিএন সদস্যদের দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। একজন ব্যক্তি ১০ থেকে ১২ ঘন্টা দায়িত্ব পালনের ফলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ার বা ক্লান্তি আসার ফলে অজ্ঞাতবসত দু’একটি অপ্রত্যাশিত শব্দ বেরিয়ে আসে। যদিও তা একটি পেশাদার বাহিনীর নিকট প্রত্যাশিত নয়। যে কোন পেশাদার বাহিনীর সদস্যদের আরও ধৈর্য্যশীল ও যাত্রী/দর্শনার্থীর সাথে আচরণে আরও যত্নবান হওয়া আবশ্যক। আমরা নিয়মিতভাবে সকল সদস্যকে ব্রিফিং প্রদান করে আসছি। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকলের সহযোগীতা একান্তভাবে কামনা করছি।

Check Also

জেনে নিন ষাট গম্বুজ মসজিদ ইতিহাস ও পূর্ণ রহস্য ||

ষাট গম্বুজ মসজিদ           বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন …