১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ইতিহাসে প্রথমবারের মত যা হচ্ছে এল ক্লাসিকোতে

ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭, সময় ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

এল ক্লাসিকো মানেই আলাদা উত্তেজনা। এল ক্লাসিকো মানেই মাঠের সাথে সাথে মাঠের বাইরে ভক্তদের মধ্যে মহাড়ন। এরক্লাসিকো মানেই সব কাজ রেখে টিভির সামনে বসে থাকা। এলক্লাসিকো মানেই ঘুম বাদ দিয়ে রাত জেগে ১২:৪৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা। হ্যা, এই ১২:৪৫ মিনিটেই সাধারনত এলক্লাসিকো দেখে আমরা অভ্যস্ত।

কিন্তু আমরা যেটাতে অভ্যস্ত না, সেটাই হবে এবার ক্লাসিকোতে। মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকো হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোজ শনিবার সন্ধ্যা

৬টায় অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচটি।

কিন্তু কেন এই সময়ে ক্লাসিকো?

স্পানিশ লা লীগা কমিটি আগেই ঘোষনা দিয়েছিল, ভারত ও এশিয়ার বৃহত্তম ফুটবল বাজার ধরতেই তারা এল ক্লাসিকোর সময় আরো এগিয়ে নিয়ে আসবে যাতে উপমহাদেশের মানুষ এই খেলাটি আউপভোগ করতে পারে। তাদের যুক্তি হল, রাতে হওয়াতে এশিয়ার বাজারে যে বিশাল মার্কেট, সেটা দখল করতে পারছেনা। কারন অত রাত জেগে অনেকেই খেলা দেখেনা। তাই সেই কথা মাথায় রেখে এবার এই সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশকে যোগ্য নেতৃত্ব দেবে সিহাব-টিটোনরাই

কবি গোলাম মোস্তফার একটি কবিতার লাইন দিয়ে শুরু করছি। তিনি লিখেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। আজ যে শিশু আগামী দিনে সে পিতা, দেশের নাগরিক ও নেতৃত্ব প্রদানকারী একজন পরিপূর্ণ মানুষ। নশ্বর এই পৃথিবীতে একজন চলে যায় আরেকজনের আগমনের মাধ্যমে সে স্থান পূর্ণ করে। এ ক্ষেত্রে একজন যোগ্য শিশুই পারে সমাজকে বিকশিত করতে, আলোকিত করতে।

শিশুরা স্বপ্ন দেখে নিজেদেরকে নিয়ে। কোমল হৃদয়ের শিশুদের রয়েছে সম্ভাবনা স্বপ্নময় ভুবন তৈরির। স্বপ্ন

ভুবন তৈরি করে জীবনের নানা রঙের সুখ দুঃখের তুলির আঁচড়ে। আজকের শিশুরাই আগামীর স্বপ্ন কারিগর। সেই সব স্বপ্ন পূরণ তৈরি হবে তখনই যখন সেই কোমলমতি শিশুটি পারবে নিজের শৈশব, কৈশোরের লালিত স্বপ্নভূমির ভিত্তি মজবুত করতে।

শুধু কবি বা সাহিত্যিকদের লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কথাটার যথার্থতা মিলেছে রাজশাহীতে। দুই শিশু উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে রক্ষা করেছে দেশের কোটি টাকার সম্পদ। খেলার ছলে হোক আর বাস্তবিক কোনো চিন্তাধারা থেকেই হোক না কেন, তাদের এই কাজটি আজ পুরো দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

শিশু দুটির একজনের সবে মাত্র বয়স ছয়, অপরজনের সাত বছর। একজনের নাম সিহাবুর রহমান, আরেকজনের নাম টিটোন আলী। এই বয়সেই বুদ্ধিমত্তা আর বীরত্বে তারা অবাক করেছে সবাইকে। তাদের তাৎক্ষণিক সাহসী পদক্ষেপে ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি তেলবাহী ট্রেন। তারা প্রমাণ করেছে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে যোগ্য নেতৃত্ব দেবে। তারাই এ দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

ঘটনাটি গত সোমবারের। রাজশাহীর বাঘায় দুর্ঘটনা এড়াতে ঠান্ডা নিবারণের লাল মাফলার উড়িয়ে ট্রেন থামিয়েছিল উপজেলার ঝিনা গ্রামের সুমন হোসেনের ছেলে সিহাবুর রহমান (৬) ও একই গ্রামের মহিদুল ইসলামের ছেলে টিটোন আলী (৭)। পাশের এক ক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার সময় তারা এই রেললাইন ভাঙা দেখতে পায়। তাদের বিবেকে বাদ সাধে। তারা ভাবে এই রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই দুই খুদে শিশু তাই ট্রেন আসতে দেখে তাদের একজনের কাছে থাকা লাল মাফলার দিয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেয়। এর ফলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় কোটি টাকার তেলবাহী ট্রেন।

Comments

comments

আজকের সব খবর

error: Content is protected !!