১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

হুয়াওয়ে নোভা টু আই: দ্রুতগতির, চমৎকার ও কার্যকর স্মার্টফোন

ডিসেম্বর ২১, ২০১৭, সময় ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

এ যুগে স্মার্টফোন কেনার আগে গ্রাহক হাজারটা জিনিস চিন্তা করে। বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে সেরা ফোন কোনটি, সেটি নিয়ে নিরবে নিভৃতে চলে নানা গবেষণা। আর মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোন কেনার আগে গ্রাহক চায় তার স্মার্টফোনটিতে সব হাই-এন্ড ফিচার যুক্ত থাকুক এবং ফোনটি দ্রুতগতির হোক। গ্রাহকের সব চাহিদা পূরণে সক্ষম, এমন স্মার্টফোন বাজারে কমই আছে এখনো। সেদিক বিবেচনায় হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন নোভা টুআই গ্রাহক চাহিদা মেটাতে অনেকটাই সফল। কয়েক সপ্তাহ ধরে হুয়াওয়ের মধ্যম বাজেটের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করার পর মনে হয়েছে, এ বাজেটের ফোনে গ্রাহক যা যা চায়, তার সবই আছে ফোনটিতে। ফোনটিকে যে গ্রাহকরা লুফে নিয়েছে, সেটিও বোঝা যায় ফোনটির জন্য অগ্রিম বুকিং দেওয়ার জন্য গ্রাহকের লাইন ও বাজারে সৃষ্ট আলোড়ন দেখে।

ফোনটি হাতে পাওয়ার পরপরই এটিকে আনবক্সিং করার উত্তেজনা সইছিল না আমার। আনবক্সিং করেই ভেতরে একটি স্ক্রিন প্রটেক্টর পেলাম। ফোনের স্ক্রিনকে অনাহূত দাগ বা আঁচড় থেকে রক্ষা করবে কার্যকরী এ প্রটেক্টরটি। নজরকাড়া ফোনটিতে আছে ৫.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং এটির বেজেল খুবই সংকীর্ণ। বেজেললেস স্ক্রিনের স্মার্টফোন তৈরীর লক্ষ্যমাত্রার পথে এ ফোনটিকে হুয়াওয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৬০x১০৮০ পিক্সেলের স্মার্টফোনটিতে বডি টু স্ক্রিন রেশিও ১৮:৯

অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডির ফোনটির কোনাগুলো ও পাশের অংশ কার্ভড ডিজাইনড। এতে ফোনটি হাতে নিতে ও ব্যবহার করতে আরাম লাগবে। পেছনে ক্যামেরা বরাবর নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আছে যেটি দিয়ে ফোন আনলক করা যাবে। আঙুলের ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্যানিং থাকায় খুব সহজেই আঙুলের যেকোনো প্রান্ত দিয়েই ফোনটি আনলক করা যাবে। এতে আপনার ব্যবহার হয়ে উঠবে আরও স্বাচ্ছন্দময়।
৪ জিবি র‌্যাম, ১.৭ গিগাহার্জের অক্টাকোর প্রসেসরের ফোনটি টানা কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করার পর এর গতি, কার্যক্ষমতা ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব সম্পর্কে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। ফোনটির রম ৬৪ জিবি যেটি ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

ক্যামেরা যেকোনো স্মার্টফোনের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ফিচারের মধ্যে অন্যতম। গ্রাহক স্মার্টফোন কেনার আগেও ক্যামেরার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গ্রাহকদের এ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই হুয়াওয়ে এ ফোনটিতে অত্যাধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফোনটির সামনে ও পেছনে দুটি করে মোট চারটি ক্যামেরা গ্রাহকের জন্য বড় একটি চমক। ফুল ভিউ ডিসপ্লের স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে বিশ্বে এ ফোনটিতেই প্রথমবারের মতো চারটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ও সামনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা। ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাগুলো মুলত যেকোনো পরিবেশে মূল ক্যামেরার ছবির সেরা ডেফথ ও ব্যাকগ্রাউন্ড পেতে সহায়তা করে।
নোভা

ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে স্টুডিও লেভেল হাই সিআরআই (কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স) ছবি তোলা সম্ভব। এ ছাড়া অন্ধকারে ভালো ছবি তোলার জন্য সামনে ও পেছনে টনিং ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন স্মার্ট সেলফি টনিং ফ্ল্যাশ কোন পরিবেশে কেমন লাইট এবং ব্রাইটনেস লাগবে, তা

স্বয়ংক্রিভাবে নির্ধারণ করতে পারে। সামনে ও পেছনে দুটি ক্যামেরা থাকায় খুবই ভালো মানের পোর্ট্রেট ছবি তোলা যাবে। ফোনটিতে বিল্টইন পোর্ট্রেট মুড আছে। হার্ডওয়্যার লেভেলেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের এ ফোনটিতে ডুয়াল টোন ইন্টিলিজেন্ট সেলফি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছবি তোলার জন্য আছে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন মোড। ছবি তোলার সময় এবং তোলার পরও বুকেহ ইফেক্ট (ফোকাস ঠিক রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার) পরিবর্তন করা যাবে এ ফোনটিতে। আরও স্পষ্ট এবং নান্দনিক ছবির জন্য এ দু’টি ডুয়াল লেন্সেই থাকছে হার্ডওয়্যার লেভেল বোকেহ। এর পাশাপাশি লো লাইটেও ফোনটি দিবে আগের চেয়েও উন্নততর পারফরমেন্স। ফোনটির ক্যামেরা দিয়ে ফোরকে ভিডিও করা যাবে।

ব্যাটারির স্থায়িত্বও স্মার্টফোনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নানা কারণে যেহেতু স্মার্টফোনে অনেক কাজ করতে হয়, তাই চার্জও ফুরায় দ্রুত। সেক্ষেত্রে একটু বেশি স্থায়িত্বের ব্যাটারির দিকে ঝুঁকছেন সবাই। গ্রাহকদের সেই আগ্রহের কথা বিবেচনা করে হুয়াওয়ে এ ফোনটিতে ৩৩৪০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করেছে। ভারি ব্যবহারেও ফোনটি পুরোপুরি একদিন ব্যবহার করা যাবে আর একটু হালকা ব্যবহারে এক চার্জে প্রায় দুই দিন ব্যবহার করা যাবে ফোনটি। আর একটানা দুই ঘণ্টা চার্জ দিলে ব্যাটারি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ব্যাটারি চার্জিংয়েও অন্যান্য ফোনের চেয়ে দ্রুত চার্জ হয় নোভা টু আই ফোনের ব্যাটারি।

হুয়াওয়ে নোভা টু আই স্মার্টফোনের স্ট্যান্ডবাই ব্যাটারি টাইম ২৬০ ঘণ্টা, টকটাইম ১১ ঘণ্টা, মিউজিক প্লে টাইম ১৬ ঘণ্টা, এক নাগাড়ে ভিডিও দেখা যাবে টানা ৭ ঘণ্টা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যাবে টানা ৮ ঘণ্টা।

অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ ন্যুগাট আপরেটিং সিস্টেমে চালিম স্মার্টফোনটির পারফরম্যান্স খুবই সন্তোষজনক। ফোনটির দাম ২৬.৯৯০। এ দামে এমন একটি ফোনের জন্যই দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম।

Comments

comments

আজকের সব খবর

error: Content is protected !!