১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

জীবনযুদ্ধে জয়ী ‘বড় ছেলে’র বিসিএস ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭, সময় ৫:০৪ অপরাহ্ণ

মো. রবিউল ইসলাম। বর্তমানে কর্মরত অাছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার হিসেবে। ৩৩তম বিসএসের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়নের দীননাথ পাড়া গ্রামে কেটেছে তার দুরন্ত শৈশব। স্কুলে বরাবরই প্রথম ছিলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। সাত ভাইবোনের মধ্যে পরিবারের বড় ছেলে তিনি। তাই তার পথচলাটা সহজ ছিল না।

বাবা স্কুল শিক্ষক হওয়ায় ৯ সদস্যের বড় পরিবারে তার একার পক্ষে চালানো সম্ভব ছিল না। অার তাই ছোট বেলা থেকেই সংসারের হাল ধরেছেন রবিউল। প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুতের আলো না থাকায় হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করেছেন তিনি। এর মাঝেই এসএসসি, এইচএসসিতে করেছেন বোর্ড স্ট্যান্ড। টিউশনি করে ছোট ভাই-বোনদের স্বাচ্ছন্দ্যের সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন তিনি একই শার্ট গায়ে দিয়ে যেতেন। এজন্য বন্ধুদের তিরস্কারের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তবুও দমে যাননি তিনি। জীবনের সকল বাধা অতিক্রম করে তিনি একজন সফল মানুষ হয়েছেন।

রবিউল এসএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় যশোর বোর্ডে হয়েছেন দশম। ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাশের পর মেধার জোরে ভর্তি হন ঢাকা কমার্স কলেজে। সেখান থেকে প্রতি মাসে স্কলারশিপ বাবদ পেতেন ৯০০ টাকা। তখন থেকেই শুরু টিউশনির। টিউশনি করে নিজের খরচ সেসময় নিজেই চালাতেন। এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ঢাকা বোর্ড থেকে ১৬তম স্থান অধিকার করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। কোচিং করেননি বই কিনে নিজে নিজেই ভর্তির প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে পড়াকালে বন্ধুদের দেখে অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে অংশ নেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নির্বাহী অফিসার পদের পরীক্ষায়। সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। ঘুরে যায় জীবনের মোড়। হলে থেকেই করতে থাকেন চাকরি। পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা। এর মাঝেই ঢাকা ব্যাংকের প্রবেশনারি পদের সার্কুলার হয়। সেখানের পরীক্ষায়ও সফল হন। বেতন ভালো হওয়ায় যোগ দেন সেখানে। এরই মাঝে ঢাকায় বাসাভাড়া করে ভাই-বোনদের নিয়ে আসেন ঢাকাতে। ভর্তি করিয়ে দেন বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বিসিএসের প্রতি কখনোই তেমন আগ্রহ ছিলোনা মেধাবী এ পুলিশ কর্মকর্তার। তবে ঢাকা ব্যাংকে চাকুরি করাকালে ক্রমশই হাঁপিয়ে উঠছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল।

এরই মাঝে প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২৯তম বিসিএসের। তবে আবেদন করার পর পুরোপুরি ভুলেই গেছিলেন সে কথা। হঠাৎ একদিন শুনতে পান আগামী শুক্রবার বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও গণিতের ভিতটা ছোট থেকেই ভালো হওয়ায় মোটেও বেগ পেতে হয়নি তাকে। সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন সেখানে। পরে আনসার ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ট্রেনিং করে চাকুরিতে যোগদান করতে করতে চলে যায় ৩০ ও ৩১তম বিসিএস।

৩৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি হলে রবিউলের এক বন্ধু অনলাইনে তার ফরমটি পূরণ করে দেন। সেখানেও প্রিলিমিনারিতে সফল হন তিনি। এরপর ৩৩তম বিসিএসে ৩৩তম হয়ে যোগ দেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। বর্তমানে কর্মরত অাছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার হিসেবে।
[কার্টেসি : চ্যানেলআই]

Comments

comments

আজকের সব খবর

error: Content is protected !!